ঢাকা মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কে হলেন টাইগারদের নতুন কোচ?

নিউজ ডেস্ক
২ বছর আগে
কে হলেন টাইগারদের নতুন কোচ?
আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগে প্রধান কোচের পদ থেকে চান্ডিকা হাথুরুসিংহেকে বরখাস্ত করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। তার জায়গায় অন্তর্বর্তীকালীন কোচ হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে ক্যারিবীয় ফিল সিমন্সকে।

মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর) মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে লঙ্কান কোচকে শোকজের পাশাপাশি বরখাস্ত করার কথা জানান বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি ফারুক আহমেদ।

মিরপুরে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বর্তমান কোচের ব্যাপারে আমরা চেষ্টা করছিলাম। দুই-তিনটা ঘটনা ঘটেছে। এটা দলের জন্য ভালো উদাহরণ ছিল না। শোকজ ও সাসপেনশন দেয়া হয়েছে। বরখাস্ত করার আগে আমরা তাকে নিয়ম মেনে শোকজ নোটিশ করেছি।  এরপর আমরা বরখাস্ত করব।

ফারুক বলেন, দক্ষিণ আফ্রিকা, আফগানিস্তান সিরিজ ও চ্যাম্পয়নস ট্রফির জন্য আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি অন্তর্বর্তীকালীন হেড কোচ নিয়োগ দেওয়ার। নতুন অন্তর্বর্তীকালীন হেড কোচ হিসেবে ফিল সিমন্স চ্যাম্পিয়নস ট্রফি পর্যন্ত কাজ করবেন।

বাংলাদেশ দলের সঙ্গে ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি পর্যন্ত চুক্তি ছিল হাথুরুসিংহের। দিন ছয়েক পরে শুরু হতে যাওয়া দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজেও দায়িত্ব পালন করার কথা ছিল তার। কিন্তু তার আগেই অসাদাচরণের জন্যই লঙ্কান এ কোচকে ছাঁটাই করলো বিসিবি। তার বিরুদ্ধে নাসুম আহমেদকে শারিরীকভাবে লাঞ্চিত করার অভিযোগ ছিল। এছাড়া নির্ধারিত ছুটির চেয়ে বেশি ছুটি তিনি কাটিয়েছেন বলেও অভিযোগ আছে। যা আচরণবিধি ভঙ্গের অংশ।

২০২৩ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে বাংলাদেশের কোচ হয়ে আসেন হাথুরু। কিন্তু তার প্রথম মেয়াদে বাংলাদেশ ক্রিকেটের যতটুকু উন্নতি দেখা গেছে, দ্বিতীয় মেয়াদে সেটা দেখা যায়নি। দ্বিতীয় মেয়াদে হাথুরুর সঙ্গে চুক্তি ছিল ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি পর্যন্ত।

এর আগে ২০১৪ সালের মে থেকে ২০১৭ সালের ৯ নভেম্বর পর্যন্ত দেশের ক্রিকেটের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন তিনি। এরপর নিজ দেশ শ্রীলঙ্কার হেড কোচের দায়িত্ব পালন করেন হাথুরু।

এদিকে কোচ হিসেবে বেশ পরিচিত মুখ সিমন্স। সাবেক এই ক্যারিবিয়ান অলরাউন্ডার ২০০৪ সালে প্রথমবারের মতো জিম্বাবুয়ের হেড কোচ হিসেবে নিয়োগ পান। ২০০৭ বিশ্বকাপের পর আয়ারল্যান্ডের কোচ হন তিনি। ৮ বছরের এই লম্বা সময়ে তার অধীনেই ২০১১ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড ও ২০১৫ বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও জিম্বাবুয়েকে হারিয়েছে আইরিশরা।

তবে ২০১৫ বিশ্বকাপের পরপরই ওয়েস্ট ইন্ডিজের হেড কোচ হওয়ার প্রস্তাব গ্রহণ করেন সিমন্স। টি-টোয়েন্টি র‍্যাংকিংয়ে তলানির দিকে থাকা দলটিকে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়াতে শেখান তিনি। শুধু তা-ই নয়, তার অধীনে ভারতে অনুষ্ঠিত ২০১৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এর পরের বছরই অবশ্য সিমন্স আফগানিস্তানের কোচ হন। কিন্তু ২০১৯ সালে আবারও ওয়েস্ট ইন্ডিজের ডাগআউটে ফেরেন তিনি। সেবার অবশ্য ব্যর্থতার পাল্লাই ভারী ছিল তার জন্য। তাই ২০২২ টি-টোয়েন্টি পদত্যাগ করেন বিশ্বকাপের পরপরই।

খেলোয়াড়ি জীবনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে ২৬ টেস্ট ও ১৪৩ ওয়ানডে খেলেছেন সিমন্স। যদিও বলার মতো কিছু করতে পারেননি। টেস্টে ১ হাজার ২ রান ও ৪ উইকেটের পাশাপাশি ওয়ানডেতে ৩ হাজার ৬৭৫ রানসহ ৮৩ উইকেট শিকার করেছেন তিনি।


কমেন্ট বক্স