প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (এলএসি) থেকে সেনা প্রত্যাহার শুরু করেছে ভারত ও চীন। আজ শুক্রবার একটি তাঁবু ও বেশ কিছু অস্থায়ী নির্মাণ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে সীমান্ত থেকে। তবে এখনও পুরোপুরি প্রত্যাহার সম্পন্ন হয়নি। আগামী চার-পাঁচ দিনের মধ্যে ডেপসাং ও ডেমচকে শুরু হবে সেনার টহলদারি, ঠিক যেমনটা হতো ২০২০ সালের আগে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস বলছে, পূর্ব লাদাখের ডেমচক ও ডেপসাং ভারত-চীন সীমান্তে দুই পক্ষের অন্যতম সংঘর্ষের দুই জায়গা। আজ শুক্রবার সকাল থেকে এই দুই কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এলাকা থেকে সেনা প্রত্যাহার শুরু করে ভারত ও চীন।
পূর্ব লাদাখের ভারত-চীন সীমান্তবর্তী প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর বিভিন্ন অংশে গত চার বছরের বেশি সময় ধরে সামরিক অচলাবস্থা চলছিল। তা এবার অবসান হতে যাচ্ছে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। গত সোমবারই ভারত সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, পূর্ব লাদাখে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর টহল দেওয়ার বিষয়ে চীনের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে তারা।
এরপর বেইজিংয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেন চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান। তিনি বলেন, ‘চীন-ভারত সীমান্ত সংক্রান্ত বিষয়ে সম্প্রতি কূটনৈতিক ও সামরিক চ্যানেলের মাধ্যমে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ সফল হয়েছে।’
এরপর গতকাল বুধবার রাশিয়ায় কাজানে ব্রিকস সম্মেলনের সাইডলাইনে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হয় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে। সেই বৈঠকে দুই রাষ্ট্রনেতাই পূর্ব লাদাখে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর টহলদারি ও সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে ভারত-চীনের চুক্তিকে সমর্থন করেন।
২০২০ সালের জুনে লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় ভারত ও চীনের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়, যাকে একটি টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এর মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটে। কমান্ডার-স্তরের ২০ দফার বেশি আলোচনা সত্ত্বেও পূর্ব লাদাখে ডেপসাং ও ডেমচকের মতো জটিল পয়েন্টগুলো এতদিন অমীমাংসিত ছিল।
হিন্দুস্তান টাইমস বলছে, ২০২০ সালে লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় ভারত ও চীনের মধ্যে সংঘর্ষে ২০ ভারতীয় নিহত হয়। এতে চীনা সেনা নিহতের তথ্য পাওয়া গেছে। তবে কতজন চীনা মারা গেছেন, নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি।
এরপর থেকেই সীমান্তে সংঘাত এড়াতে আলোচনা শুরু করে দুই পক্ষ। কিন্তু কোনোমতেই একমত হতে পারছিল না তারা। ফাঁকে ফাঁকে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর আসছিল, সীমান্তে সেনা বাড়াচ্ছে চীন। এবার সংঘাতের সমাধানের পথ সহজ হলো বলেই দাবি করছে ভারত।
কমেন্ট বক্স