ঢাকা শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬ , ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বেঁচে আছেন বাইকের সেই তরুণী

অনলাইন ডেস্ক
২ ঘন্টা আগে
বেঁচে আছেন বাইকের সেই তরুণী
রাজধানীর আব্দুল্লাহপুর-টঙ্গী সড়কে মধ্যরাতে মোটরসাইকেলে এক তরুণীকে নিথর অবস্থায় নিয়ে যাওয়ার যে ঘটনা নিয়ে রহস্য তৈরি হয়েছিল, তার অনেকটাই এখন পরিষ্কার হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে ওই তরুণী নিজেই জানিয়েছেন, তিনি বেঁচে আছেন এবং বর্তমানে সুস্থ আছেন।

বুধবার  (২৬ আগস্ট) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টা ১৫ থেকে ৩টা ২০ মিনিটের দিকে ঢাকার রাস্তায় একটি মোটরসাইকেলে তিনজনকে দেখা যায়। ওমরাহ শেষে বগুড়ায় ফেরার পথে মুফতি মনোয়ার হোসেন নামে এক ব্যক্তি আব্দুল্লাহপুর থেকে টঙ্গী পর্যন্ত মোটরসাইকেলটি অনুসরণ করেন।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, বাইকটির চালকের পেছনে বসা এক যুবক এক তরুণীকে জাপটে ধরে রেখেছিলেন। তরুণীর দুই পা খালি ছিল এবং সেগুলো অস্বাভাবিকভাবে নিচের দিকে ঝুলছিল। বিষয়টি দেখে তার সন্দেহ হয়, তরুণীটি জীবিত নাকি অচেতন।

মুফতি মনোয়ারের বর্ণনায়, ‘জাগ্রত বা জীবন্ত মানুষের এমনভাবে পা ঝোলার কথা না।’ এ কারণেই তিনি ঘটনাটি নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন।

পরে মোটরসাইকেলটির নম্বর প্লেটের তথ্য ধরে বিভিন্ন সংস্থার সূত্রে জানা যায়, এর মালিকের বাড়ি কেরানীগঞ্জের আব্দুল্লাহপুর এলাকায়। এ-সংক্রান্ত অনুসন্ধানে দুটি মোবাইল নম্বরও পাওয়া যায়। এর একটি নম্বরের শেষ তিন সংখ্যা ১৫২। নম্বরটি একটি শোরুম মালিকের হলেও তিনি দাবি করেছেন, তার শোরুম থেকে ওই মোটরসাইকেল বিক্রি হয়নি। কীভাবে তার নম্বর মোটরসাইকেলটির সঙ্গে যুক্ত হলো, সে বিষয়েও তিনি কিছু জানেন না। অপর নম্বরটি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ পাওয়া গেছে।

তথ্য অনুযায়ী, মোটরসাইকেলটির মালিকের বাড়ি আব্দুল্লাহপুর হলেও সেটি চালাচ্ছিলেন রাজেন্দ্রপুরের এক যুবক। তার নামের শেষাংশে ‘আলম’ রয়েছে। তিনি বাইকে থাকা তরুণীকে নিজের স্ত্রী বলে পরিচয় দিচ্ছেন। তবে তাদের বৈবাহিক সম্পর্কের বিষয়টি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

তরুণীর বড় বোনের স্বামী জানিয়েছেন, ‘মিতু (ছদ্মনাম) কখনো ড্রিংকস করে নাই। সেদিন আমরা স্বামী-বউ ঝগড়া করছিলাম। এটা দেখে ও রাগ করে চলে যায়। এরপর ওই ছেলের সঙ্গে হয়তো ড্রিংকস করে। পরে অসুস্থ হয়ে পড়লে ছেলেরা তাকে বাসায় দিয়ে যায়।’

আলম ওই তরুণীর স্বামী কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বিয়ে করবে বলে শুনেছি।’

জানা গেছে, ওই তরুণীর আগে দুটি বিয়ে হয়েছিল। তার সাবেক এক স্বামী তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ করেছেন। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

তরুণীর বড় বোনের স্বামীর দাবি, বারে অসুস্থ হয়ে পড়ার পর আলম ও তার এক বন্ধু তাকে নিয়ে টঙ্গীতে তার বাসায় যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরে ওই অবস্থায় টঙ্গীতে না গিয়ে তারা মিরপুরে ফিরে যান। সেখানে এক বান্ধবীর বাসায় তরুণীকে রেখে আলম তার বোনকে ফোন করেন।

সবশেষে শুক্রবার বিকেলে ওই তরুণী নিজেই জানান, তিনি জীবিত আছেন এবং বর্তমানে সুস্থ রয়েছেন। এর ফলে মধ্যরাতে মোটরসাইকেলে তাকে নিথর অবস্থায় নিয়ে যাওয়ার ঘটনাটি ঘিরে তৈরি হওয়া মৃত্যুর আশঙ্কা দূর হয়েছে।


কমেন্ট বক্স