ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬ , ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ট্রাম্পের ক্ষমতায় লাগাম টানতে পারবে কি মধ্যবর্তী নির্বাচন?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২ ঘন্টা আগে
ট্রাম্পের ক্ষমতায় লাগাম টানতে পারবে কি মধ্যবর্তী নির্বাচন?
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে শুধু কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারিত হচ্ছে না, বরং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতার সীমা, সাংবিধানিক ভারসাম্য এবং দেশটির গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতাও বড় পরীক্ষার মুখে পড়ছে। 

৩ নভেম্বরের এই নির্বাচনের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে, ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকাণ্ডে কংগ্রেস কতটা নজরদারি করতে পারবে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ কতটা ঠেকানো সম্ভব হবে।

নির্বাচনী প্রক্রিয়া পুনর্গঠনে ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন উদ্যোগ ইতোমধ্যে আদালতের বাধার মুখে পড়েছে। ব্রেনান সেন্টার ফর জাস্টিসের ২০ অক্টোবরের এক পর্যালোচনা অনুযায়ী, নির্বাচনী পদ্ধতি পরিবর্তন এবং ভোটার নিবন্ধনের তথ্য চাওয়াসহ প্রশাসনের বিভিন্ন উদ্যোগের বিরুদ্ধে অন্তত ৩৪টি ফেডারেল আদালত সাময়িক বা স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন। এসব রায়ের মধ্যে ট্রাম্পের নিয়োগ দেওয়া বিচারকদের সিদ্ধান্তও রয়েছে।

গত ২৬ অক্টোবর ক্যালিফোর্নিয়ার প্রায় ২০ হাজার নিবন্ধিত ভোটারের ব্যালট আলাদা করে রাখার বিষয়ে বিচার বিভাগের আবেদনে হস্তক্ষেপ করতে অস্বীকৃতি জানায় একটি ফেডারেল আপিল আদালত। এসব ভোটারের কেউ কেউ অ-মার্কিন নাগরিক হতে পারেন বলে অভিযোগ করেছিল বিচার বিভাগ। তবে আদালত জানায়, সরকারের আবেদনের বিষয়ে নিম্ন আদালতকে যথেষ্ট সুযোগ দেওয়া হয়নি। বিষয়টি এখনও অমীমাংসিত।

কংগ্রেসে নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঝুঁকি
বর্তমানে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে অল্প ব্যবধানে সংখ্যাগরিষ্ঠ রিপাবলিকানরা। ডেমোক্র্যাটরা এক বা উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেলে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসননীতি, নির্বাচনী কার্যক্রম, সরকারি ব্যয় এবং নির্বাহী আদেশের বাস্তবায়ন নিয়ে ব্যাপক তদন্তের সুযোগ পাবে।

প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ পেলে ডেমোক্র্যাটরা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের তলব, নথিপত্র চাওয়া এবং বিভিন্ন নীতির বিষয়ে জবাবদিহি নিশ্চিত করার চেষ্টা করতে পারবে। সিনেটের নিয়ন্ত্রণ পেলে প্রেসিডেন্টের নিয়োগ দেওয়া কর্মকর্তা ও বিচারপতিদের নিয়োগের ক্ষেত্রেও তাদের প্রভাব বাড়বে।

তবে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারালেও ট্রাম্পের নির্বাহী ক্ষমতা ও ভেটো দেওয়ার অধিকার বহাল থাকবে। ফলে ডেমোক্র্যাটদের জয় মানেই ট্রাম্পের নীতির অবসান নয়।

নির্বাচনের পরই আসল পরীক্ষা
২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পরাজয়ের পর ফল মেনে নিতে অস্বীকৃতি, জর্জিয়ার কর্মকর্তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি এবং ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটলে হামলার ঘটনা ট্রাম্পের নির্বাচনী আচরণ নিয়ে উদ্বেগের বড় কারণ।

২০২৬ সালের নির্বাচনেও একই পরিস্থিতি তৈরি হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। তবে ভোট গণনা নিয়ে আইনি চ্যালেঞ্জ, রাজ্য কর্মকর্তাদের ওপর চাপ এবং জালিয়াতির অভিযোগ তুলে নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করার আশঙ্কা রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, আদালত বেআইনি সিদ্ধান্ত বাতিল করতে পারলেও এককভাবে গণতন্ত্র রক্ষা করতে পারে না। এর জন্য কংগ্রেসের স্বাধীন নজরদারি, নির্বাচন কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষতা এবং রাজনৈতিক নেতাদের আইনি প্রক্রিয়া ও নির্বাচনী ফল মেনে নেওয়া জরুরি।

এই নির্বাচনের ফল যাই হোক, ট্রাম্পের ক্ষমতার ওপর সাংবিধানিক নিয়ন্ত্রণ কতটা কার্যকর থাকে, সেটিই হবে বড় প্রশ্ন। ভোটের মাধ্যমে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারিত হলেও নির্বাচনের পর রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক আচরণই বলে দেবে, যুক্তরাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ক্ষমতার ভারসাম্য কতটা অটুট রয়েছে। সূত্র: আল-জাজিরা





কমেন্ট বক্স