কয়েক ঘণ্টা আগেও পরিস্থিতি ছিল স্বাভাবিক। শ্রমিকরা কাজে যোগ দিয়েছিলেন প্রতিদিনের মতোই। কিন্তু দুপুর গড়াতেই বদলে যায় দৃশ্যপট। একের পর এক কারখানা থেকে বেরিয়ে সড়কে অবস্থান নেন পোশাকশ্রমিকরা। অবরোধ, ইটপাটকেল নিক্ষেপ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া আর পুলিশের টিয়ারশেলে মুহূর্তেই রণক্ষেত্রে পরিণত হয় ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের জালকুড়ি এলাকা।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকেলের এই সংঘর্ষে পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। ভাঙচুর করা হয়েছে ১০ থেকে ১৫টি যানবাহন। প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর সন্ধ্যা সাড়ে ৫টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে ওই সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জের শিল্পাঞ্চলগুলোর পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল। সকাল থেকেই ফতুল্লার বিসিক শিল্পনগরী, আদমজী ইপিজেড, কাঠেরপুল ও শিবু মার্কেট এলাকার বিভিন্ন কারখানায় শ্রমিকরা স্বাভাবিক নিয়মে কাজে যোগ দেন।
এদিকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে দুপুরে ফতুল্লার বিভিন্ন শিল্পাঞ্চল পরিদর্শন করেন বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম আজাদ, জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির, পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান, নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাশুকুল ইসলাম রাজীবসহ বিএনপির নেতাকর্মীরা।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিভিন্ন স্থানে সতর্ক অবস্থানে ছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এসআরবি, বিজিবি ও পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পাঁচ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়। শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতেও ছিল পুলিশের বাড়তি নিরাপত্তা।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী জানান, পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ারশেল ছোড়া হয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৫টার দিকে শিবু মার্কেট এলাকা থেকে শ্রমিকদের সরিয়ে নেওয়া হলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। এরপর ওই সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে।