ঢাকা সোমবার, ০৫ জানুয়ারী ২০২৬ , ২২ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ঢাবি ও জাবিতে দুজনকে পিটিয়ে হত্যা

শেখ নয়ন ফয়েজী
১ বছর আগে
ঢাবি ও জাবিতে দুজনকে পিটিয়ে হত্যা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) দুজনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। নিহত দুজনের মধ্যে একজন ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ও অপরজন মানসিক ভারসাম্যহীন বলে জানা গেছে।

গতকাল বুধবার বিকেল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত দুই বিশ্ববিদ্যালয়ে এই দুই হত্যাকাণ্ড ঘটে। এরই মধ্যে এ নিয়ে চলছে নানা আলোচনা। দুটি ঘটনার ভিডিও থাকার পরও এখন পর্যন্ত কোনোটিতেই কাউকে আটকের খবর পাওয়া যায়নি। তবে ঢাবির ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে।

ঢাবি ও জাবির ঘটনা দুটি নিয়ে আজ বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কার্যালয়ে দুঃখপ্রকাশ করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লে. জেনারেল (অব) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি বলেন, আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে অপরাধীকে আইনের হাতে তুলে দিতে হবে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘তাঁরা তো (শিক্ষার্থী) সবচেয়ে শিক্ষিত। একজন অপরাধ করলে তাঁকে আইনের হাতে সোপর্দ করেন। আইন তো নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার নেই কারো।’

জাহাঙ্গীরনগরে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা।

বুধবারের এই ঘটনার পর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আজ বৃহস্পতিবার বিক্ষোভ মিছিল করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা। বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের করা হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দিক প্রদক্ষিণ শেষে রেজিস্ট্রার ভবনের সামনে গিয়ে বিক্ষোভ মিছিল শেষ করেন শিক্ষার্থীরা। বিক্ষোভ মিছিলে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধে নানা স্লোগান দেন। পাশাপাশি এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে দ্রুততম সময়ে আইনের আওতায় আনারও দাবি জানান।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে বিক্ষোভ করছেন শিক্ষার্থীরা।

মব জাস্টিসের নামে হত্যা বন্ধ এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিচারের দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে বিক্ষোভ করছেন শিক্ষার্থীরা। আজ বৃহস্পতিবার সকালে ব্যানারসহ সেখানে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। এরই মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হল কর্তৃপক্ষ সাত সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটির প্রধান করা হয়েছে হলের আবাসিক শিক্ষক অধ্যাপক ড. আলমগীর কবিরকে।

দুই হত্যা যেভাবে

গতকাল বুধবার বিকেলে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রান্তিক গেট এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম আহমেদকে দেখতে পান কয়েক শিক্ষার্থী। পরে তাঁকে কয়েক দফা পিটিয়ে প্রক্টর অফিসে নেওয়া হয়। সেখানেও কয়েক দফা মারধরের শিকার হন শামীম। পরে তাঁকে আশুলিয়া পুলিশের হাতে তুলে দিলে গুরুতর আহত অবস্থায় গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে রাত ১১টার দিকে তিনি মারা যান। নিহত শামীম বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, গত ১৫ জুলাই রাতে উপাচার্যের বাসভবনে অবস্থানরত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন শামীম।

গতকাল বুধবার রাতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলে চোর সন্দেহে তোফাজ্জল হোসেন নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। নিহত তোফাজ্জলের বাড়ি বরিশালের বরগুনা জেলার পাথরঘাটা উপজেলার কাঁঠাল তলি ইউনিয়নে। তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন বলে জানা গেছে। জানা গেছে, বুধবার সন্ধ্যায় চোর সন্দেহে তোফাজ্জলকে আটকের পর গেস্টরুমে নিয়ে যান শিক্ষার্থীরা। সেখানে তাকে রাত ১০টা পর্যন্ত দফায় দফায় মারধর করে শিক্ষার্থীরা। এক পর্যায়ে ওই যুবককে ক্যান্টিনে বসিয়ে ভাতও খাওয়ানো হয়। এরপর পুনরায় মারধর করা হয়। পরে রাত ১২টার দিকে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যান কয়েক শিক্ষার্থী। সেখানে চিকিৎসক তোফাজ্জলকে মৃত ঘোষণা করলে ওই শিক্ষার্থীরা মরদেহ রেখেই সরে যান।

এ নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সাইফুদ্দিন আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেন, ক্যাম্পাসের মধ্যে এ ধরনের ঘটনা কোনো ভাবেই মেনে নেওয়া যাবে না। কেউ চুরি করতে আসলেও তাঁকে পিটিয়ে হত্যার অধিকার কারো নেই। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ দেখে দায়ীদের শনাক্তের চেষ্টা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় হলের পক্ষ থেকে থানায় মামলা করা হবে।

 


কমেন্ট বক্স